জয়পুরহাটের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা পাঁচবিবি এলাকায় পুশ ইন প্রতিরোধে কড়া নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে টহলরত সদস্যরা ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সম্ভাব্য পুশ ইন ঠেকাতে টহল জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদের মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। বিজিবি বলছে, এসব পদক্ষেপের ফলে এখন পর্যন্ত পাঁচবিবি সীমান্তে পুশ ইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের পর থেকে ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় নারী-পুরুষের চলাচল বেড়েছে। দূর থেকে কোথাও তাঁদের জড়ো হতে দেখা গেছে। রাতের বেলায় হঠাৎ বিভিন্ন স্থানে আলো নিভিয়ে দেওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, সীমান্তে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার আগে বিএসএফ প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে।
এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজিবি সীমান্ত-সংলগ্ন গ্রামগুলোয় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানাতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও রাতের বেলায় পাহারা দেওয়া এবং সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য
পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ঘোনাপাড়া সীমান্ত-সংলগ্ন শালুয়া গ্রামের বাসিন্দা অমল চন্দ্র বলেন, বিজিবি টহল আরও বাড়িয়েছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিজিবি কর্মকর্তার বক্তব্য
হাটখোলা বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার আনিসুর রহমান বলেন, হাটখোলা ও কয়া বিওপির মধ্যবর্তী প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। পুশ ইন, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রতিটি বিওপিতে বিজিবির সদস্যের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটার আগে কেউ যেন সীমান্ত এলাকায় না যায়, সে জন্য মাইকিংয়ের পাশাপাশি মসজিদে মসজিদে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিজিবি-২০ জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচবিবি সীমান্তে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ ইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। স্থানীয় লোকজনও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।



