রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাসের ব্রেক ফেল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাসচালক ঝন্টু আলী (৪০) তার সহকারী শাকিব হোসেনকে (৩০) নদীতে লাফ দিতে বলেন। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
মেহেরপুরের গাংনী থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল এসবি পরিবহণের বাসটি। দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের হাফ কিলো এলাকায় পৌঁছালে চালক সব যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে ফেরিতে উঠতে বলেন। কিন্তু হঠাৎ বাসের ব্রেক ফেল করায় বাসটি না থেমে সরাসরি ফেরির পন্টুনে গিয়ে রেলিং ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
ঘটনার পরপরই নৌপুলিশের কর্মকর্তারা চালক ঝন্টু আলীকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সহকারী শাকিব হোসেনও গুরুতর আহত অবস্থায় একই হাসপাতালে ভর্তি হন। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য ফেরি পারাপার বন্ধ রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
বাসচালক ঝন্টু আলী জানান, ব্রেক ফেল হওয়ার পর তিনি সহকারীকে নদীতে লাফ দিতে বলেন। সহকারী শাকিব হোসেন বলেন, সুপারভাইজারের নির্দেশে তিনি চালকের কাছে টিকিট দিতে গেলে চালক তাকে লাফ দিতে বলেন। লাফ দেওয়ার সময় তার মুখে প্রচণ্ড আঘাত লাগে এবং তিনি জ্ঞান হারান। পরে জ্ঞান ফিরলে পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
বাসের সুপারভাইজার আজমল হোসেন বলেন, পন্টুনের কাছাকাছি বাসটি ব্রেক ফেল করে নদীতে পড়ে যায়। হেলপারের মুখে আঘাত লেগে কেটে গেছে। চালক নদীতে পড়ে বাসের জানালা ধরে উঠে আসেন এবং পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকের মতামত
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফুল ইসলাম জানান, বাসচালক ও সহকারী উভয়ই ভালো আছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।



