বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের কুমিরের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে আট বছরের শিশু ফাতেমা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তার মানসিক ভারসাম্যহীন মা ফজিলা বেগম (৪৭) অবশেষে নিজের পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন ফজিলা বেগমকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার বিবরণ
প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এক শুক্রবার বিকেলে ঝড়ের সময় মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ফজিলা বেগম। তখন ফাতেমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর। ঠিকানা হারিয়ে মা ও মেয়ে বাগেরহাটে আশ্রয় নেয়। প্রথমে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এবং পরে খানজাহান আলী মাজারে তাদের বসবাস শুরু হয়।
কুমিরের হামলা
গত ১ জুন রাত সাড়ে আটটার দিকে মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নামলে কুমিরের হামলার শিকার হয় ফাতেমা। মায়ের চোখের সামনে কুমিরটি ফাতেমাকে পা ধরে টেনে নিয়ে যায়। মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা কিছুই করতে পারেননি, শুধু নির্বাক চেয়ে থাকা ছাড়া।
পরিবারের সন্ধান
এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে প্রকাশিত ছবি দেখে ফজিলা বেগমকে চিনতে পারেন তার স্বজনরা। বুধবার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রাম থেকে পরিবারের ছয় সদস্য বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হন এবং বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছান।
পরিবারের বক্তব্য
ফজিলা বেগমের মা হাজেরা খাতুন জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ফজিলা তার ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ফাতেমা পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল। বর্তমানে দুই ভাই ও দুই বোন বেঁচে আছে। তাদের বাবা মমরুজ আলী রিকশা চালান ও কৃষিকাজ করেন। মেয়েকে ফিরে পেয়ে তারা আনন্দিত, তবে ফাতেমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।
ফজিলা বেগমের ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, তিন বছরের বেশি আগে বোন হারিয়ে গিয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত, কিন্তু ভাগ্নি ফাতেমার মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব খারাপ লাগে।
হস্তান্তর প্রক্রিয়া
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, পরিবারের সদস্যরা সকালে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ফজিলা বেগমকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
ফজিলা বেগম স্পষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও বারবার বলার চেষ্টা করেন, 'আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।' শিশু ফাতেমাকে মাজারের দীঘির পাড়ের কবরস্থানে রেখেই মা পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন।



