কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন- চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে হৃদয় (২৮) এবং কক্সবাজার পৌরসভার ইসলামপুর বাবুলের ঘোনা এলাকার বাসিন্দা আসিফ (২৭)। গুরুতর আহত আশরাফুল ইসলাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি স্থানীয় পাহাড়তলী ইসলামপুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার বা পূর্ব বিরোধ নিয়ে দুপক্ষের যুবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে ওই বিরোধের জেরেই উভয়পক্ষের কয়েকজন যুবকের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয়পক্ষ দেশিয় ধারালো অস্ত্র ও ছুরি নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হৃদয়, আসিফ ও আশরাফুল মারাত্মকভাবে জখম হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
পরে স্থানীয়রা তিনজনকে রক্তাক্ত উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক হৃদয়কে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুই যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন বুধবার সকালে আসিফও মারা যান।
পুলিশের পদক্ষেপ
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে একজনের মৃত্যু হলেও অপরজন বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত হৃদয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং আসিফের লাশ চমেক হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



