যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। তাদের এই মানবেতর অবস্থা দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা এখনো সেখানে আটকে আছে। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কে কাটছে তাদের। খাদ্য ও পানির অভাবে তারা ক্ষুধার্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
পরিদর্শনে বিজিবি অধিনায়ক
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ওই নারী-পুরুষ ও শিশুদের অবস্থানের স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি তার জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সন্ধ্যায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
সংকটে ৯ মাসের শিশু
জানা গেছে, ওই ১০ জনের মধ্যে একটি ৯ মাস বয়সী শিশু রয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। যেহেতু তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছে, তাই বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো খাবার বা পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে বিএসএফ তাদের খাবার দিচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
বিএসএফের তৎপরতা
রোববার দিবাগত গভীর রাতে বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবি ঘটনাটি টের পেয়ে তা প্রতিহত করে। সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় বিএসএফ কয়েকটি ট্রাকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ প্রায় ১২০ জনকে সীমান্তে নিয়ে আসে। তাদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে ১০-১২ জন করে সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। প্রথমে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বিজিবির বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়। পরে রাতভর আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায়, কিন্তু সফল হয়নি।
সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা
এ ঘটনার পর বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্তে বিজিবি জনবল ও সতর্কতা বাড়িয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, পতাকা বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ায় ওই ১০ জন দ্বিতীয় দিনের মতো ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছে।



