বাগেরহাটে দীঘির কুমিরের টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমার সন্ধান মেলেনি
বাগেরহাটে দীঘির কুমির শিশুকে টেনে নিল, উদ্ধার ব্যর্থ

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি ফাতেমা (৮) নামে এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে। সোমবার (১ জুন) রাত ৯টার দিকে মাজার সংলগ্ন মহিলা ঘাট থেকে ওই শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি।

ঘটনার বিবরণ

শিশু ফাতেমার মা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা গেছে। তিনি তার মেয়েকে নিয়ে মাজার ঘাটে কয়েকদিন আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য মাজারের খাদেম, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা চারটি নৌকা নিয়ে দীঘিতে তল্লাশি শুরু করেন। এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাত ১০টা পর্যন্ত ফাতেমাকে উদ্ধার করা যায়নি।

উদ্ধার অভিযান

ঘটনার সংবাদ শুনে বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান নাসের রিকাবদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পুলিশ সুপার জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছে। ইতোমধ্যে মাজার এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে; তাদের নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের বক্তব্য

জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় চারটি নৌকা দিয়ে দীঘিতে তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় লোকজনও সহযোগিতা করছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে ওই দীঘির পাড়ে একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন কুকুরটিকে তাড়া করলে সেটি ঘাটের দিকে যায়। সেখানে মাজারের ফোরকান নামের এক নিরাপত্তারক্ষীকে আঁচড় দেওয়ার পর তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি দীঘির পানিতে পড়ে যায়। এর পরপরই দীঘির কুমিরটি ধীরে ধীরে এসে কুকুরটিকে চোয়ালে করে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

এখন আবারও সেই কুমিরই একটি শিশুকে টেনে নিয়ে গেল। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ