লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে শূন্যরেখার কাছে কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং উভয় পক্ষ অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ফিরে যেতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিনবিঘা করিডোর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান ডিএএমপি পিলার ৭-এর ৩০ নম্বর সাবপিলারের কাছে ভারতের ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ভীম ক্যাম্পের প্রায় ৭০-৮০ জন সদস্য এবং ৩০-৩৫ জন শ্রমিক কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বাঁশের খুঁটি স্থাপন শুরু করে। এটি করিডোরের শূন্যরেখা থেকে মাত্র ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন না মেনে বিএসএফ এ কাজ শুরু করলে পানবাড়ী বিজিবি কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার সোলেমান আলী টহল দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিএসএফ বিজিবির আপত্তি উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে বিজিবি সদস্যরা অস্ত্রসহ প্রতিরোধমুখী অবস্থান (পজেশন) নেন। এতে সীমান্তে উভয় বাহিনীর মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজনা নিরসন
উত্তেজনা নিরসনে বিজিবি ও বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে টেলিফোনে যোগাযোগ হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিজিবির রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান জানান, সীমান্ত আইন অমান্য করে বিএসএফ কোনো কাজ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, শনিবার (২৩ মে) এ বিষয়ে দুই বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পূর্বের ঘটনা
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে একই এলাকায় ডিএএমপি পিলার ৬-এর ১৬ নম্বর সাবপিলারের কাছেও বিএসএফ অনুরূপভাবে বেড়া নির্মাণের কাজ করার চেষ্টা করেছিল। বারবার সীমান্তে বিএসএফের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।



