বাংলাদেশ কোস্টগার্ড (বিসিজি) সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে। শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য
মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরে শুক্রবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে জেলেরা গভীর অরণ্যে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে ‘দয়াল বাহিনী’ নামের একটি দস্যু দল ফিরিঙ্গি খাল ও কুঞ্চির খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
প্রথম অভিযান
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপহৃত জেলেরা কয়রা থানার টোটিয়া ও কেওরাতলা খাল সংলগ্ন আন্দার মানিক এলাকায় আটক রয়েছে বলে জানা যায়। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কয়রা কোস্টগার্ড স্টেশন একটি বিশেষ অভিযান চালায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনে পালিয়ে যায় এবং ১০ জেলেকে ফেলে যায়, যাদের উদ্ধার করা হয়। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয় অভিযান
কোস্টগার্ড ও র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরেকটি দল ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র হাতে খুলনার দাকোপ থানার শিবসা নদীর বড় দুধমুখ খাল সংলগ্ন এলাকায় আটক রয়েছে বলে জানা যায়। একই দিন বিকেল ৫টায় মোংলা কোস্টগার্ড বেস দ্বিতীয় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দস্যুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। পরে দস্যুরা বনে পালিয়ে যায়।
অস্ত্র উদ্ধার ও জেলেদের মুক্তি
অনুসন্ধান অভিযানে কোস্টগার্ড সদস্যরা একটি সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করে এবং আরও ১১ জেলেকে উদ্ধার করে। মোট ২১ জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দ অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, সুন্দরবন থেকে সব দস্যু দল ও তাদের সহযোগীদের নির্মূল করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।



