সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাতদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে; অন্যথায় আরও কঠোর অবস্থানে যাবে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এতে বলা হয়, সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায়, কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অভিযান ও উদ্ধার
কোস্ট গার্ড জানায়, বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই অভিযানে ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয় এবং ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণ
কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে গত রোববার রাতে বাগেরহাটে কোস্ট গার্ডের নিকট ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ গ্রহণ করা হয়। আত্মসমর্পণকারী ডাকাত সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।



