সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধানসহ ৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধানসহ ৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ

বাগেরহাট জেলার মানচিত্রসুন্দরবনের ‘বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধানসহ সাত সদস্য কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা

বাহিনীটির প্রধান সুমন হাওলাদারের (৩২) বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায়। এর আগে ২০১৮ সালেও অস্ত্র–গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন সুমন। সে সময় তাঁর সঙ্গে এবার আত্মসমর্পণ করা সিদ্দিকও আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সুমনের নেতৃত্বে সিদ্দিকসহ দলটি আবার দস্যুতা শুরু করে। আত্মসমর্পণ করা অন্য সদস্যরা হলেন রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। সাতজনের মধ্যে ছয়জন মোংলা থানার এবং একজন রামপাল থানার বাসিন্দা।

দস্যুদের অপরাধ

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবা উল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযানের সাফল্য

এসব অভিযানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০টি গোলা, ১৭৮টি কার্তুজ, ২৫টি ফাঁকা কার্তুজ, এয়ারগানের ১৮৭টি গুলি ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২১ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন মেসবা উল ইসলাম আরও বলেন, ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর অবস্থানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাতজন ডাকাত কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

আত্মসমর্পণের বিবরণ

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মে রাত ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল এলাকায় কোস্টগার্ডের কাছে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুটি পাইপগান, ২৫টি কার্তুজ ও তিনটি ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়।