আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন হাজারো যাত্রী। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চাপ বেড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড মোড় থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঈদযাত্রা এবং ঈদ পরবর্তী রাজধানীতে ফেরা নিয়ে ভোগান্তি আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।
আশুগঞ্জ-আখাউড়া চারলেন প্রকল্পের অগ্রগতি
সড়ক নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার দুই লেন থেকে চারলেনে মহাসড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেককে অনুমোদন হয়। পরে নানা সমীক্ষা যাচাই-বাছাই শেষে গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে তিনটি প্যাকেজ ৫১ কিলোমিটার মহাসড়কের কাজ শুরু করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এরমধ্যে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার চারলেন সড়কের কাজ গত ৮ বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে প্রায় প্রতিদিনই আশুগঞ্জ গোলচত্বর এবং বিশ্বরোড মোড়ে ঘণ্টর পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে।
যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রী এবং চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সিলেটগামী দূরপাল্লার এক পরিবহন চালক জানান, আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত আসতেই আমাদের দিন শেষ। ঢাকা থেকে ভৈরব আসতে সাধারণত দুই ঘণ্টা লাগে, কিন্তু আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত মাত্র ১১ কিলোমিটার পথ পার হতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি আরও বলেন, ‘এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশের কথা মনে পড়লে দূরপাল্লার গাড়ি চালাতে ইচ্ছে করে না।’ তিনি মহাসড়কে সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন।
প্রাইভেটকার চালক মো. হুমায়ুন কবীন বলেন, ‘মহাসড়ক নয় যেন এক ভোগান্তির নরক যন্ত্রণা। নরসিংদী থেকে সিলেট যাবো। ৩ ঘণ্টা ধরে আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড আসা পর্যন্ত জ্যামে আটকে আছি। একটু একটু করে আগাতে হচ্ছে। সেইসঙ্গে সড়কটিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভটভটি, ইজিবাইকের এলোপাতাড়ি চলাচলের দাপটের কারণে যানজটের মাত্রা আরও কয়েক ধাপ বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েকদিন পর ঈদযাত্রায় ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়বে।’ মো. হুমায়ুন কবীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের আরও তৎপরতা বাড়ানোর দরকার। না হলে ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়বে।’
সিলেটগামীযাত্রী আলমগীর মিয়া জানান, ‘সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি, সিলেট যাব। ভৈরব পর্যন্ত চলে এসেছি কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই। ভৈরব সেতু পার হওয়ার পর আশুগঞ্জ প্রবেশের পথেই দীর্ঘ জ্যাম। ভেবেছিলাম কয়েক মুহূর্ত হয়তো শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সাড়ে ৩ ঘণ্টায় আমি আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত এসেছি। মানুষের সময়ের মূল্য দেখার কেউ নেই। ভোগান্তি দেখার কেউ নেই। আমার সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন। যারা দায়িত্ব পালন করার কথা তারা কি করছে?’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ঈদুল ফিতরের সময় সিলেটবাসী আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। এ বিশ্বরোড থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটিতে যেন যানজট মুক্ত থাকে। কিন্তু এবারও দেখছি একই অবস্থা। ঈদুল আজহার আগ মুহূর্তে মহাসড়কটির একই অবস্থা। কে শুনে কার কথা। পুরো মহাসড়কজুড়ে যেন এক ধরনের অরাজকতা। এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্বশীলদের জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
হাইওয়ে পুলিশের বক্তব্য
এ ব্যাপারে বিশ্বরোড খাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট শাহজাহান আলী বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গত কয়েকদিন ধরে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যেই অন্তত ২৫ জন পুলিশ সদস্য হাইওয়ে থানায় যোগ দেবেন। এতে মহাসড়কটিতে ভোগান্তির মাত্রা কিছুটা হলেও কমবে বলে জানান তিনি।



