কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা থেকে অপহৃত দুই যুবক অবশেষে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। তবে ফিরে এলেও এখনো আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। টানা পাঁচ দিন পাহাড়ের গহীনে বন্দি থাকার পর তাদের মুক্তি মেলে।
অপহরণের ঘটনা
গত ১২ মে সংঘবদ্ধ একটি অপহরণ চক্র মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়াকাটা এলাকা থেকে কৌশলে দুই যুবককে কক্সবাজার শহরে নিয়ে যায়। পরে ইনানীর পাটুয়ারটেক সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাদের আটকে রাখা হয়। অপহৃতরা হলেন লাল মিয়ার ছেলে রবিউল আলম ও বাদশাহ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ এহসান।
মুক্তিপণের দাবি ও নির্যাতন
অপহরণকারীরা প্রথমে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ফিরে আসা যুবকরা জানান, অস্ত্রধারী অন্তত পাঁচজন সন্ত্রাসী সার্বক্ষণিক তাদের পাহারা দিত। নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে একদিন পরপর তাদের এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে সরিয়ে নেওয়া হতো। এ সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
পরিবারের আর্থিক সংকট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দেনদরবারের পর শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দুই পরিবার কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়ে। গরু বিক্রি, জমানো সঞ্চয়, পানের বরজ এবং ভিটেমাটি বন্ধক রেখে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করা হয়।
অপহরণ চক্রের নেটওয়ার্ক
ভুক্তভোগীদের দাবি, অপহরণ চক্রটির নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিস্তৃত ও ভয়ংকর। এতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী ও মিয়ানমারের কিছু অপরাধী জড়িত থাকতে পারে। এমনকি ভারতের কয়েকজন অপরাধীর সম্পৃক্ততার কথাও তারা জানতে পেরেছেন। চক্রটির নিজস্ব যানবাহন রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের টার্গেট করা হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি মুহাম্মদ আবদুস সুলতান বলেন, দুই যুবকের অপহরণের বিষয়টি পুলিশ জানত এবং জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছিল। তবে মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়া পাওয়ার বিষয়টি পুলিশের জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।



