দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় আরও ৩ গ্রেপ্তার, মোট ২৯
দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় আরও ৩ গ্রেপ্তার, মোট ২৯ জন

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জন।

গ্রেপ্তারকৃতরা

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ত্রিশাল উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রিপন সরকারের ছেলে তাজমুল সরকার ওরফে সাদেক (২২), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩৬) এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার প্রয়াত আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. রবিন (৩৭)।

সোমবার বিকেলে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের সামনে থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দীপু দাস ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তারের কারণ

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে সর্বশেষ এই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তারা শ্রমিক ও জনতাকে উসকে দিয়ে সহিংস হামলা এবং ভিকটিমের প্রতি অমানবিক আচরণে ভূমিকা রেখেছেন বলে পুলিশ জানায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ পর্যন্ত ২৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা দীপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর ভালুকা উপজেলার দুবালিয়া পাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি তার কারখানায় কাজ করছিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হলে তাকে চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। রাতে তাকে কারখানা প্রাঙ্গণ থেকে বের করে এনে ক্ষিপ্ত জনতা বর্বরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ আরও জানায়, হামলাকারীরা পরে মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর দীপুর ছোট ভাই ভালুকা মডেল থানায় প্রায় ১৫০ অজ্ঞাত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।