মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এ সংঘর্ষে ছয় সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও বিস্তার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে সামান্য ঘষা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে চালকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।
শহরজুড়ে উত্তেজনা ও দুর্ভোগ
সংঘর্ষের ঘটনায় শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হবিগঞ্জ সড়কে র্যাব অফিসের সামনে শ্রমিকদের ব্যারিকেডে শহরের ভেতরে ও বাইরে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে হাজারও যাত্রী ও পথচারী চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ সময় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
আহতদের তালিকা
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- আমজাদ হোসেন বাচ্চু (৪৯), ইসমাইল মাহমুদ (৫৭), এহসানুল হক (৩৪), উজ্জ্বল কুমার দাশ (৪৪), নূর মোহাম্মদ সাগর (৩৩), মো. আল আমিন (৩০), রাব্বি (২২), আউয়ুব আলী (৪০), বিশাল (২২), সওকত (৪৪), রাকিব (১৯), বিল্লাল মিয়া (৩২), চয়ন মিয়া (৩৮) ও আমির মিয়া (২৪)। বাকি দুজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত সাংবাদিকরা হলেন- আমজাদ হোসেন বাচ্চু, ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহিদ, এসকে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর ও মো. আল আমিন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য দুইপক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া জানান, হাসপাতালে মোট ১৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগেরই মাথা ও শরীরে আঘাত রয়েছে।



