সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ দুইজন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। একই অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
অভিযানের বিস্তারিত
রোববার সকালে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ষষ্ঠ দফায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোর চারটায় সুন্দরবনের ঢাংমারী খালসংলগ্ন এলাকায় কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর আস্তানায় হানা দেয় কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত বাহিনীর সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড রাজন শরীফ ও মো. রবিউল শেখ নামে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
জিম্মি জেলে উদ্ধার
একই বাহিনীর হাতে অপহৃত ও বনের গহীনে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি রাখা চার জেলেকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। আটককৃত ডাকাত মো. রবিউল শেখ (৩০) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানা এবং রাজন শরীফ (২০) বাগেরহাট জেলার মোরলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। রাজন শরীফ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
উল্লেখ্য, রাজন শরীফের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। দুপুরে জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে গত শুক্রবার গহীন বনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক এবং চার জিম্মি জেলেকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।



