সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রকাশ্যে হত্যার ঘোষণা দিয়ে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে চোরাকারবারিরা। বিজিবির সোর্স সন্দেহে আঙ্গুর মিয়া (৩৮) নামে ওই যুবককে হত্যা করা হয়। রোববার (১৭ মে) দুপুরে তাহিরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
লাশ উদ্ধার ও পরিচয়
রোববার ভোর ৫টার দিকে বাড়ির অদূরে রাজাই মিশন স্কুলসংলগ্ন জমিতে স্থানীয় লোকজন আঙ্গুর মিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। নিহত আঙ্গুর মিয়া তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চাঁনপুর সীমান্তের রাজাই সীমান্ত গ্রামের মৃত আবুল মনসুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি শ্রমিক ছিলেন এবং তার ৭ ছেলেমেয়ে রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানান, শনিবার দিবাগত রাতে ২৮-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের তাহিরপুরের চাঁনপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় বিড়ির চালান আটকের পর তাদের বাড়ির উঠানে আসেন। এরপর বিজিবি টহল দল বিড়ির চালান নিয়ে বিওপিতে ফিরে যায়। তিনি আরও বলেন, বিজিবি টহল দল চলে যাওয়ার পর বাড়ির অদূরে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে তিন চোরাকারবারি তার স্বামীর গতিবিধি নজর রাখে। রাত ৩টার দিকে ভাসুরের ছেলে সাগর ফোন করে ওই তিন ব্যক্তির নজরদারির বিষয় জানালে তার স্বামী ঘর থেকে বেরিয়ে তাদের শনাক্ত করতে যায় এবং আর বাড়ি ফেরেনি।
হুমকি ও হত্যাকাণ্ড
এর আগে বিজিবি টহল দল বিওপিতে ফিরে যাওয়ার পর রাজাই সীমান্ত গ্রামের পেশাদার মাদক বিড়ি চোরাকারবারি আকরাম, মাফিক, হেলালসহ তিন-চারজন সংঘবদ্ধ হয়ে আঙ্গুর মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী সাদেকা খাতুনকে হুমকি দেয় যে, 'বিড়ির চালান বিজিবিকে ধরিয়ে দেওয়ার কারণে রাত পোহালেই প্রকাশ্যে আঙ্গুর মিয়াকে জবাই করে হত্যা করা হবে'।
আঙ্গুর মিয়ার লাশ পাওয়ার খবর জানাজানি হলে ভোররাত থেকেই আকরাম, মাফিক, হেলালসহ তিন-চার দুর্বৃত্ত আত্মগোপনে চলে যায়।
বিজিবির বক্তব্য
রোববার দুপুরে ২৮-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ (বিজিবি) সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, নিহত ব্যক্তি বিজিবির সোর্স নন। চোরাকারবারিরা সন্দেহের জেরে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের তথ্য
তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম নিশ্চিত করেন যে, নিহতের গলা, হাত ও মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।



