কিশোরগঞ্জে কাঠ ব্যবসায়ী হত্যা: মাদক বিরোধী আন্দোলনকারীকে খুন, আটক ৫
কিশোরগঞ্জে কাঠ ব্যবসায়ী হত্যা, আটক ৫

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক কাঠ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন কৃষিজমিতে তাঁর লাশ পড়ে ছিল। নিহতের নাম হানিফ মিয়া (৩৪)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

হত্যার ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় হানিফের স্ত্রী আয়েশা বেগম আজ সকালে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে জাকির হোসেন (৩৬) নামের একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মামলার পাঁচ আসামি জাকিরের বাবা লস্কর মিয়া, মা হেলেনা বেগম, জাকিরের স্ত্রী খুকি বেগম (৩৫), আত্মীয় নাদিয়া আক্তার (২৩) ও আয়েত উল্লাহকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ

হানিফের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, ‘গতকাল রাত ১২টার দিকে আমার স্বামী ফোন করে বলে, “আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে।” এরপর আমরা জাকিরের বাড়িতে গিয়ে দেখি বাড়ির গেট বন্ধ। ডাকাডাকির পরও গেট খোলেনি। আজ জাকিরের বাড়ির কাছ থেকে আমার স্বামীর লাশ পাওয়া গেল।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয়েশার ভাষ্য, জাকির এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামী কথা বলতেন। জাকির সম্প্রতি মাদক মামলায় জেলে যান। জাকিরের ধারণা, গ্রেপ্তারের পেছনে তাঁর স্বামীর হাত ছিল। কিছুদিন আগে জেল থেকে ছাড়া পান। এর পর থেকে তাঁর স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরের লোকজন তাঁর স্বামীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আর তিনি বাড়িতে ফেরেননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাদক বিরোধী আন্দোলনে জড়িত হানিফ

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে ফরিদপুর ইউনিয়নে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। হানিফ ওই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। জাকিরের বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। এ অবস্থায় কিছুদিন আগে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জাকির ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গ্রেপ্তারের জন্য হানিফকে সন্দেহ করে আসছিলেন। গতকাল রাতে জাকিরের বাড়িতে গিয়ে দরজা বন্ধ পেয়ে হানিফের পরিবারের লোকজন প্রথমে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু রাত বেশি হওয়ায় অনেকে ফোন ধরেননি। রাত আড়াইটার দিকে পুলিশকে জানানো হয়।

পলাতক প্রধান আসামি

ওই ঘটনার পর থেকেই জাকির হোসেন পলাতক। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

তদন্ত ও ময়নাতদন্ত

মামলাটি তদন্ত করছেন কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাতে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে হানিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। মামলার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। হানিফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা আজ দুপুরে জাকিরের বসতঘর পুড়িয়ে দেন।