কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে শুক্রবার সকালে বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের শিকার ১২ জন এখনো শূন্যরেখায় মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন। ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও তাদের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বৈঠক ব্যর্থ, অনিশ্চয়তা অব্যাহত
শনিবার সকালে এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বৈঠকে বিএসএফ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জন তাদের নাগরিক নন এবং তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা জানান, এ ঘটনায় দুই দেশের রাষ্ট্রপর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে
প্রাগপুর সীমান্তের গ্রাম্য চিকিৎসক শহিদ জানান, পুশইনের শিকার ১২ জনের মধ্যে ৪ জন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১ জন মারাত্মক জ্বরে ভুগছে, বাকি তিন শিশু, ৪ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ সবাই ঠাণ্ডা কাশিতে আক্রান্ত। তিনি বলেন, 'তারা বলছে ১২-১৫ দিন গোসল করতে পারেনি, খোলা আকাশের নিচে জঙ্গলে মশার কামড় খেতে হচ্ছে। এই গরমে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।' চিকিৎসক তাদের ওষুধ দিয়েছেন।
আতঙ্ক ও আরেকটি পুশইন চেষ্টা
শুক্রবার ভোরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে ভারতের চরমেঘনা সীমান্ত গেট এলাকার কুষ্টিয়ার বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। ঘটনার পর থেকে দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে রোববার ভোরে উপজেলার চীল্লশপাড়া সীমান্তে বিএসএফ আরও ১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভারতের ভূখণ্ডে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।



