ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের মূল শোকযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে। শোকযাত্রা পরিচালনার সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শোকযাত্রার বিস্তারিত
সোমবার সকাল থেকে দেশটির সাবেক নেতার মরদেহ এবং তার সঙ্গে প্রায় চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়া কয়েকজন আত্মীয়ের কফিন একটি ট্রেইলারে করে তেহরানের মোসাল্লা থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কফিনগুলো তেহরানের আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে বলে নির্ধারিত রয়েছে। বিশাল জনসমাগমের এই অনুষ্ঠানটি ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাফিক বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তেহরান ও কোম শহরে বিশেষ ট্রাফিক বিধি-নিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। শোকযাত্রা পরিচালনার সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নাজাফে জানাজা ও দাফন পরিকল্পনা
ইরানের কোমে জানাজা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ বহনকারী কফিন নাজাফে স্থানান্তর করা হবে। দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলী খামেনির বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও আগামীকাল নাজাফ সফরে যাবেন এবং ইরাকে অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
কারবালা ও নাজাফে জানাজা
বুধবার ইরাকের কারবালা ও নাজাফ শহরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই জানাজায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
মাশহাদে দাফন
আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হবে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতার মরদেহ। এই মাজারটি ইরানের পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।



