যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশিসহ চারজনের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নাগরিক এবং এক মার্কিন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাটি ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় সংঘটিত হয়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আলবানি এলাকার লাউডনভিলের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম রুবেল একটি ২০০৯ মডেলের টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি চালিয়ে নিউইয়র্ক শহর থেকে আলবানির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে ৫৯৯১ রুট ৯এইচ/২৩ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত কারণে গাড়িটি রাস্তার মাঝখানের বিভাজক রেখা অতিক্রম করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ২০২৫ মডেলের টয়োটা ক্রাউন গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে নাজমুল রুবেল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রুবেলের গাড়িতে থাকা চার আরোহীর মধ্যে ব্রঙ্কসের বাসিন্দা মোহাম্মদ হিরামন (৬০) ও ফাহিম হালিম (২৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গাড়িতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী ফাতিমা আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলবানি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া এক বছর বয়সী শিশুকন্যাকে ‘লাইফ নেট’ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে একই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্য গাড়ির যাত্রীদের অবস্থা
অন্যদিকে টয়োটা ক্রাউন গাড়িটি নিয়ে আলবানির স্টকপোর্ট এলাকা থেকে নিউইয়র্ক শহরের দিকে আসছিলেন ব্রুকলিনের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী লুকা পালভেনিয়ান। দুর্ঘটনায় তাঁর গাড়ির যাত্রী মার্কিন নাগরিক জুলিয়া রিচি (৬২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। চালক লুকা পালভেনিয়ানকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজ ও তদন্ত প্রক্রিয়া
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও তদন্তে সহায়তা করতে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ক্ল্যাভারাক ফায়ার কোম্পানি, লিভিংস্টন ফায়ার কোম্পানি, গ্রিনপোর্ট রেসকিউ স্কোয়াড, ভালাটি রেসকিউ স্কোয়াড, চ্যাথাম রেসকিউ স্কোয়াড, লাইফ নেট এবং কলাম্বিয়া কাউন্টি করোনরের কার্যালয় অংশ নেয়। তদন্তের স্বার্থে সড়কটি প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল।
কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ প্রকাশ করেনি, তবে প্রাথমিকভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিহতদের জানাজা ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
নিহত ব্যক্তিদের পরিবার জানিয়েছে, নিহত তিন বাংলাদেশির জানাজা ৮ এপ্রিল বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের সদস্যরা এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনগুলো নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।



