মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও: ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে, তবে তেহরান নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটন সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। গতকাল সোমবার দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি যেকোনো মূল্যে খোলা রাখা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো অর্জন করবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের আহ্বান
রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে হবে এবং এমন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বন্ধ করতে হবে, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সরাসরি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে। তবে রুবিও ইসরায়েলের নাম উল্লেখ এড়িয়ে গেছেন, যদিও ইসরায়েল ইরানে হামলায় প্রভাব ফেলেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সতর্কতা
রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের দাবি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না এবং এই জলপথ যেকোনো মূল্যে খোলা থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এর দখল নেওয়ার চেষ্টা বিশ্বে খারাপ নজির স্থাপন করবে।
আলোচনা ও সামরিক লক্ষ্য
রুবিও জানান, ইরানের সঙ্গে অধিকাংশ আলোচনা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে চলছে, তবে কিছু সরাসরি যোগাযোগও রয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনৈতিক সমাধান চান। একই সময়ে, রুবিও সামরিক অভিযানের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যন্ত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জিত হবে, মাস নয়।
ইরানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক পরিবর্তন
আল-জাজিরার প্রশ্নের জবাবে রুবিও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান অস্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে, তবে এটি সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য নয়। রুবিও ইঙ্গিত দেন, ইরানি জনগণ ভালো নেতৃত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিবর্তন সহজতর করতে ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক।
ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা
রুবিও ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, স্পেনের মতো দেশগুলো সংঘাতকালে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে জোট পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করতে পারে। রুবিও প্রশ্ন তোলেন, যদি ন্যাটো কেবল ইউরোপকে রক্ষা করে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনে সহায়তা না করে, তাহলে এর উপযোগিতা কী।
সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র কিউবা ও ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদিও রুবিও দাবি করেন ইরানে সরকার পরিবর্তন লক্ষ্য নয়, তবুও ওয়াশিংটনের অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে এবং আদতে সরকার উৎখাতই প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল।



