জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে উজ্জীবিত করেছিল: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
জিয়ার ঘোষণা জাতিকে যুদ্ধে উজ্জীবিত করেছিল: রাষ্ট্রপতি

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছিল: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ১৯৭১ সালে তদানীন্তন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসীম সাহসী করে তুলেছিল। এই ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করেছিল।

গণহত্যা দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।’

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এসময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ও বিজয়

তিনি বলেন, এই ঘোষণার পর শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ-লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মুক্তিকামী দেশবাসীর ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়।’

মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, তৎকালীন ইপিআর-এর সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক ও অগণিত নিরপরাধ মানুষ গণহত্যার শিকার হন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমি সব শহীদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি, তাদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের বিনির্মাণ

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর বহুকাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জনরায়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। যেখানে বৈষম্য, বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার থাকবে না। ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে শহীদদের এই চেতনা ও প্রত্যাশা পূরণে তিনি সমবেতভাবে কাজ করার এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ২৫ মার্চসহ দেশমাতৃকার সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ঘোষণা জাতিকে যে ঐক্য ও সাহস দিয়েছিল, তা আজও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।