ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকারোক্তি
ইসরাইলের একাধিক শহরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন। এই স্বীকারোক্তি আসে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে তার জীবিত থাকা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে।
হামলার বিস্তারিত ও মার্কিন অবস্থান
শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের সেনাবাহিনী ইসরাইলের আরাদ ও ডিমোনা শহরে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং শতাধিক ইসরাইলি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইরান এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ আগ্রাসনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হামলার পরপরই মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন। যদিও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার জীবিত থাকা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে আসছিলেন।
মোজতবা খামেনির অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মোজতবা খামেনি জীবিত থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই। ধারণা করা হচ্ছে, যে হামলায় তার বাবা ও পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় মোজতবাও আহত হতে পারেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) ইরানের নববর্ষ উপলক্ষে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি, যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। গত তিন দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতারা এই বিশেষ দিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে আসছেন। তবে এ বছর ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নতুন নেতার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি ও একটি ছবি প্রকাশ করেছে।
ছবির সত্যতা যাচাই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সন্দেহ
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা তাসনিম কর্তৃক প্রকাশিত ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান সংঘাতের সময়ে একটি জনসমক্ষে ভাষণ একতা প্রদর্শনের ভালো সুযোগ হতে পারত, কিন্তু খামেনির অনুপস্থিতি এই সম্ভাবনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রভাব
মোজতবা খামেনি হলেন ইরানের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে, যিনি যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক হামলায় নিহত হন। তার উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবার দায়িত্ব গ্রহণ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে, ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মোজতবা খামেনির অবস্থান ও নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনায় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



