ভারতের সিইসির বিরুদ্ধে অভিসংশনের নোটিশ, ১৯৩ সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেছেন
ভারতের সিইসির বিরুদ্ধে অভিসংশনের নোটিশ

ভারতের সিইসির বিরুদ্ধে অভিসংশনের নোটিশ জমা, বিরোধী দলগুলোর বড় পদক্ষেপ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অভিসংশনের নোটিশ জমা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। এই নোটিশে রাজ্যসভা ও লোকসভা মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি খবর প্রকাশ করেছে।

অভিযোগের মূল কারণ: বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন

স্বাক্ষরকারী সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার তার পদের মর্যাদা রাখতে পারেননি। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম এবং ভোটপ্রয়োগের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তারা তুলেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে এই সংশোধন প্রক্রিয়ার জেরে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৩ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া আরও ৬০ লাখ ভোটারের নাম বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। আসন্ন সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাদের নাম আদৌ উঠবে কিনা, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্ব চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলোর এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর নোটিশ জমা দিতে হলে লোকসভার অন্তত ১০০ জন অথবা রাজ্যসভার ৫০ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর দরকার হয়। যদি এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, তাহলে লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন।

এই ঘটনাটি ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। বিরোধী দলগুলোর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।