মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভোটদান আইনে চাপ, সমালোচকদের অভিযোগ নির্বাচনি কৌশল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটদান বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন। সমালোচকদের মতে, নির্বাচনি নিরাপত্তার নামে আসলে লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় এড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিতর্কিত পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সেভ আমেরিকা আইনের প্রস্তাব ও বাধা
প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল ইতোমধ্যে ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি’ (সেভ) আমেরিকা আইনের একটি সংস্করণ পাস করেছে। এই বিল অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের সময় আমেরিকানদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে এবং ভোট দেওয়ার সময় পরিচয়পত্র উপস্থাপন করতে হবে। আইনটির অধীনে ভোটারদের পাসপোর্ট বা জন্ম সনদের মতো নথিপত্র এবং ছবিসহ বৈধ পরিচয়পত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তারা মার্কিন নাগরিক।
তবে উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি বড় বাধার মুখে পড়েছে। কারণ সেখানে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা কাটিয়ে বিলটি পাস করানোর মতো প্রয়োজনীয় ভোট রিপাবলিকানদের নেই। তবু ট্রাম্প বিলটিকে তার রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রেখেছেন এবং নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগেই বিলটি পাস করাতে আইনপ্রণেতাদের তাগিদ দিচ্ছেন। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে তার এজেন্ডা আটকে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
সমর্থক ও সমালোচকদের যুক্তি
সমর্থকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতায় জনআস্থা বাড়াবে এবং জালিয়াতি রোধে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের যুক্তি হলো, এতে লাখ লাখ যোগ্য ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যারা সহজে এসব নথি সংগ্রহ করতে পারেন না। তারা অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক হিসাব পরিষ্কার: কঠোর ভোটদান বিধি চালু হলে ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ভোটার উপস্থিতি কমবে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে সহায়ক হবে।
ট্রাম্পের মরিয়া প্রচেষ্টার কারণ
ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, কঠোর ভোটদান বিধিমালা না হলে নির্বাচনে জালিয়াতি ঠেকানো যাবে না। সোমবার হাউস রিপাবলিকানদের এক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই আইন ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে’ এবং বিলটি পাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্য কোনো বিলে সই করবেন না। এই অবস্থান তার রাজনৈতিক অগ্রাধিকারকে তুলে ধরছে, যেখানে ভোটার আইন সংস্কারকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই আইন ও এর বিতর্ক মার্কিন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
