রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের তিন কারণ উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতার ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণ জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ বর্জন করেছে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেছেন। সংসদ অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন রাষ্ট্রপতি, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াক আউটের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ ও ওয়াক আউট

প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে এবারের অধিবেশনে ভাষণের শুরুতেই বিরোধী দলের সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের সম্মুখীন হন তিনি। এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন। ওয়াক আউট শেষে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, এই সংসদে ফ্যাসিস্টের দোসর, খুনির কোনো দোসর যেন বক্তব্য রাখতে না পারে।'

রাষ্ট্রপতির তিনটি অপরাধের দাবি

জামায়াত আমির দাবি করেন যে রাষ্ট্রপতি তিনটি গুরুতর অপরাধে অপরাধী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'এই প্রেসিডেন্ট তিনটা কারণে অপরাধী। তার বক্তব্য এই মহান সংসদে আমরা শুনতে পারি না।' প্রথম কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে রাষ্ট্রপতি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি এই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন।

তৃতীয় কারণ হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে একটি অর্ডিন্যান্স স্বাক্ষর করেছেন। এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী নির্বাচনে দুটি ভোট হবে, যেখানে সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংস্কার সংশোধন পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিরোধী দল এই শপথ নিলেও সরকারি দল তা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অধিবেশন না ডাকার অভিযোগ

বিরোধীদলীয় নেতা আরও উল্লেখ করেন যে রাষ্ট্রপতির প্রথম দায়িত্ব ছিল অধ্যাদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা। কিন্তু তিনি সেই অধিবেশন ডাকেননি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ' ভোট দিলেও রাষ্ট্রপতি এই ৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান করেছেন বলে তার দাবি। তিনি বলেন, 'এখানেও তিনি অপরাধ করেছেন।'

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'স্পিকারের কাছে নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তার দোসর যেন বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারেন।' তার এই বক্তব্য বিরোধী দলের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধী দলের ভাষণ বর্জন ও ওয়াক আউট সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারে।