ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ঢাকা বিমানবন্দরে ৩৩৫ ফ্লাইট বাতিল, যাত্রীদের ধৈর্য্য ধারণের পরামর্শ
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ঢাকায় ৩৩৫ ফ্লাইট বাতিল

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ঢাকা বিমানবন্দরে ৩৩৫ ফ্লাইট বাতিল, যাত্রীদের ধৈর্য্য ধারণের পরামর্শ

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। সোমবার (৯ মার্চ) একদিনেই ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা পরিস্থিতির তীব্রতা নির্দেশ করে।

কোন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে?

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সোমবারের বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৪টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট রয়েছে। এই বাতিলকরণগুলো যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

আকাশসীমা বন্ধের কারণ ও বিস্তারিত তথ্য

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দিন থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হতে শুরু করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফ্লাইট বাতিলের বিস্তারিত হিসেবে দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি এবং ৮ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রীদের জন্য পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে ধৈর্য্য ধরে ভ্রমণ ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো না গেলে ফ্লাইট বাতিলের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এই সংকট শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। যাত্রীদের উচিত তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করা।