ইরানে সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্বাচনে ঐকমত্য অর্জিত, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা স্পষ্ট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্ধারণকারী সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি।
সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্য অর্জিত
রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিরবাঘেরি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের সমঝোতা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "পরিষদের সদস্যদের মধ্যে একটি শক্তিশালী ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, যা উত্তরসূরি নির্বাচনের পথ সুগম করছে।" তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে এখনো কিছু "প্রতিবন্ধকতা" রয়েছে, যেগুলোর সমাধান প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
সভা নিয়ে মতভেদ
ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদস্যদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে সামান্য মতভেদ রয়েছে। সেটি হলো—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি সরাসরি উপস্থিত হয়ে বৈঠকের মাধ্যমে নিতে হবে, নাকি আনুষ্ঠানিক সভা ছাড়াই ঘোষণা করা সম্ভব। এদিকে নূর নিউজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে পরিষদের আরেক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসির বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সদস্যদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া
আলেকাসির আরও জানান, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া একটি পরামর্শ অনুসরণ করে একজন প্রার্থীকে ইতোমধ্যে বাছাই করা হয়েছে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ নেতা এমন একজন হওয়া উচিত যাকে "শত্রুরা ঘৃণা করবে", প্রশংসা করবে না। বাছাই করা সম্ভাব্য উত্তরসূরি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে আলেকাসির বলেন, 'এমনকি "বড় শয়তান" (যুক্তরাষ্ট্র) তার নাম উল্লেখ করেছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি তার কাছে "অগ্রহণযোগ্য" একটি বিকল্প। এই মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা চলছে, যাতে দেশের নেতৃত্ব শূন্যতা দূর করা যায়।
এর আগে শনিবার পরিষদের এক জ্যেষ্ঠ আলেম জানান, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনার জন্য সদস্যরা দ্রুতই— সম্ভবত এক দিনের মধ্যেই বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকটি উত্তরসূরি নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
