যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা জারি স্থগিত, বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা জারি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। মার্কিন দূতাবাস ঢাকা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সোমবার এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, এই স্থগিতাদেশটি ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
কার্যকর তারিখ ও কারণ
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে। মার্কিন করদাতাদের অর্থের ব্যয়ে পাবলিক সহায়তা গ্রহণের উচ্চ হার থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা জারি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়েছে, "এই স্থগিতাদেশ ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরা ভিসা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন, এবং পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি চালিয়ে যাবে।"
ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকা
বাংলাদেশ ছাড়াও এই স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান
- বাহামাস, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা, কম্বোডিয়া
- ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
- ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা
- গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত
- কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো
- মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
- রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস
- সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড
- টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।
এই স্থগিতাদেশটি মার্কিন সরকারের অভিবাসন নীতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশটির আর্থিক সংস্থান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি বিশ্বব্যাপী অভিবাসন প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।



