মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তদারকি, ইরান উত্তেজনায় উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তদারকি

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি তদারকি

প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান রবিবার সকালে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দেখভালে বিশেষ তত্ত্বাবধান

রুমন জানান, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য গামী বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়া এবং ইরান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের কীভাবে দেখভাল করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সরাসরি নজর রাখছেন। তিনি সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত রয়েছেন, পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও পরিস্থিতি তদারকি করছেন। প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে পৌঁছান এবং দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুও তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কার্যকরী কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প পরবর্তী জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় ঢাকায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পরবর্তীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বলে অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন নিশ্চিত করেছেন। এই বৈঠকগুলোতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সচেতনতা প্রতিফলিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় ভূমিকা এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি এবং মন্ত্রীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সংকটকালে বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।