যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এই রায় দিয়েছেন, যা ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতিতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, কিন্তু আইনটি প্রেসিডেন্টকে এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
ট্রাম্পের অসন্তোষ ও নতুন শুল্কের ঘোষণা
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় 'জাতির জন্য অসম্মানের' এবং বিচারপতিদের সমালোচনা করে বলেন, তিনি কিছু বিচারপতির জন্য 'সত্যিকারে লজ্জা বোধ করছেন'। বিচারপতিরা 'বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা' করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর প্রতিক্রিয়ায়, ট্রাম্প সব দেশের পণ্যের ওপর অন্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিস্তারিত
সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণার পক্ষে মত দিয়েছেন, আর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া সমর্থন করেছেন তিন বিচারপতি। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে গত বছরের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এই রায়ের ফলে, গড় শুল্কহার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো উল্লেখ করেছেন, তবে এই কমাটা সাময়িক হতে পারে কারণ নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের জন্য অন্য পথ খুঁজতে পারে মার্কিন সরকার।
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য বিরাট এক ধাক্কা হয়ে আসে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য তা বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসে। গত বছর ট্রাম্প বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে কমিয়ে ২০ শতাংশে নেমে আসে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করেছে বাংলাদেশ, যাতে পাল্টা শুল্ক ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশ হয়। এখন আদালতের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল এবং নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট শুল্ক পরিবর্তিত হবে, তবে সেটা মোট কত শতাংশ হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ককে ব্যবহার করছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করছেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, অন্য দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের বিকল্প আরও উপায় রয়েছে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন এবং ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন, যা কাজে লাগালে সম্ভবত আরও বেশি আয় করা সম্ভব হবে। ট্রাম্প এ-ও বলেন, তাঁর শুল্কের হুমকির মুখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, তার অনেকগুলো বহাল থাকবে, আলাদাভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করে চুক্তি বহাল থাকার কথা বলেন তিনি।
