ইরানে হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি দিল না যুক্তরাজ্য, ট্রাম্পের সমালোচনা
ইরানে হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি দিল না যুক্তরাজ্য

ইরানে হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি দিল না যুক্তরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলায় সহায়তা করতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

চাগোস চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা

দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে হস্তান্তর এবং সেখানে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লিজ নেওয়ার চুক্তি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। কিন্তু যুক্তরাজ্য তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সম্প্রতি এ চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, 'নিয়মানুসারে আমরা সামরিক অভিযানসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে মন্তব্য করি না।' তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান, যা যুক্তরাজ্য সমর্থন করে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের আলটিমেটাম

পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হওয়ার জন্য ইরানের ওপর বেশ কিছুদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। সম্ভাব্য এ হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সম্প্রতি মোতায়েন করেছে তারা।

ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে নাকি সামরিক ব্যবস্থা নেবে, তা বিশ্ববাসী 'সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে' জানতে পারবে। একই সময় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে চলা আলোচনায় কিছু অগ্রগতির খবরও পাওয়া গেছে।

দিয়েগো গার্সিয়া ও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়া থেকে ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। এ কারণেই হয়তো দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বোঝাপড়ায় পরিবর্তন এসেছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ বিষয় উল্লেখ করে বলেন, 'ইরান যদি চুক্তিতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে একটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শাসকগোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের দিয়েগো গার্সিয়া এবং ফেয়ারফোর্ডের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।'

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভোটাভুটির সম্ভাবনা

লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বলেছেন, 'এটি এখন স্পষ্ট যে একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েগো গার্সিয়ার মতো যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে ব্রিটিশ সরকারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'কিয়ার স্টারমারকে এখন শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। মার্কিন বাহিনীর যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি আয়োজন করতে হবে।'

আন্তর্জাতিক আইনের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে সমর্থন দেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে যুক্তরাজ্য সরকারকে সম্ভবত আন্তর্জাতিক আইনের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি অনুযায়ী, সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে যুক্তরাজ্যের যেকোনো সার্বভৌম সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে অনুরোধ জানাতে হবে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, হামলাকারী রাষ্ট্র এবং তাদের সমর্থনকারী রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিশেষ করে সমর্থনকারী রাষ্ট্র যদি 'আন্তর্জাতিকভাবে বেআইনি কাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকে'।

গত জানুয়ারিতে বিবিসির রাজনীতিবিষয়ক সম্পাদক ক্রিস মেসন কিয়ার স্টারমারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা সমর্থন করেন কি না। সে সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উত্তর দিয়েছিলেন, কীভাবে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিক্ষোভকারী হত্যা থেকে বিরত রাখা যায়, তা নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তিনি।