দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, বিদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন ঘোষণার ব্যর্থ চেষ্টায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের প্রিসাইডিং জাজ জি গুই-ইয়ন এই রায় ঘোষণা করেন, যা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

আদালতের যুক্তি ও রায়ের প্রভাব

বিচারক জি গুই-ইয়ন বলেন, সামরিক আইন জারির ফলে দেশে সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু আসামির মধ্যে এ বিষয়ে অনুতপ্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই রায়ের ফলে ইউন সুক ইয়োল দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক যুগে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড পেলেন। রায় শুনে আদালত চত্বরে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার সমর্থক হতাশায় চিৎকার করে ওঠেন, এবং কয়েকজন মন্তব্য করেন, ‘কোরিয়া এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে’।

মামলার পটভূমি ও আইনি দিক

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার শাস্তি তিন ধরনের হতে পারে: মৃত্যুদণ্ড, সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা বিনাশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল, তাদের যুক্তি ছিল যে ইউন সুক ইয়োল পার্লামেন্ট ঘেরাও করতে সেনা মোতায়েন এবং ছয় ঘণ্টার সংকটকালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে সাংবিধানিক শৃঙ্খলার ওপর ‘গুরুতর আঘাত’ করেছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে তিনি তৎকালীন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির অসাংবিধানিক পার্লামেন্টারি একনায়কতন্ত্র কায়েমের কথা নাগরিকদের জানাতেই সামরিক আইন জারি করেছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি নির্বিকার ছিলেন এবং খুব বেশি আবেগ প্রকাশ করেননি, কিন্তু এর আগে যুক্তি দিয়েছিলেন যে বিরোধী দলের অন্যায়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তিনি সামরিক আইন জারির চেষ্টা করেছিলেন। বিচারক এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি। ইউন সম্ভবত এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন, এবং এই মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও গড়াতে পারে।

এই রায় ঘিরে দেশটিতে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে, যা আদালত চত্বরে সমর্থকদের উপস্থিতি থেকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে, যা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।