রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম শীর্ষে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে যাওয়া দলের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
কুমিল্লায় আলোচনার ঝড়
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নিজ জেলা কুমিল্লায় এই বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা চলছে। তিনি কুমিল্লা-১ দাউদকান্দি-মেঘনা সংসদীয় আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং জেলার অন্যতম সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তার নিজ নির্বাচনী এলাকা দাউদকান্দি-মেঘনার বাসিন্দাদের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি পদে তার অধিষ্ঠানের ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, "আমরা মোশাররফ স্যারের একটা ভালো খবর শোনার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছি। আমরা প্রত্যাশা করছি মোশাররফ স্যার রাষ্ট্রপতি হবেন।"
রাজনৈতিক প্রোফাইল ও পূর্বঘোষণা
৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং ইতোপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পূর্বে দলীয় জনসভায় সরাসরি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং খন্দকার মোশাররফ রাষ্ট্রপতি হবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে থেকে বিতর্ক এড়িয়ে চলছেন, যা তার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমাদের নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির আলোচনায় মোশাররফ স্যারের নাম শুনে আমরা গর্ববোধ করছি। এটা বাস্তবায়ন হলে আমাদের কুমিল্লা জেলার জন্য অনেক বড় পাওয়া হবে।"
সম্ভাব্য প্রভাব ও গুরুত্ব
রাষ্ট্রপতি পদের এই সম্ভাব্য পরিবর্তন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণ করলে সরকার গঠন, নীতিনির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যেখানে নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন। ড. মোশাররফের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে রাষ্ট্রপতি পদে তার যোগ্যতার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
