ঢাকার তুরাগ নদ থেকে গত ২৪ ও ২৫ জুন তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তবে পুলিশ দাবি করেছে, এরা আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে ফেসবুকে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।
তিন লাশের পরিচয়
উদ্ধারকৃত লাশগুলি হলেন: তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার মো. শাহ আলমের ছেলে মো. সুমন (১৭), একই এলাকার আরিফ হাসান রাকিব (২৫) ও রাজধানীর মনিপুর মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা কফিল উদ্দিন মোল্লার ছেলে রনি মোল্লা (৩৫)।
সুমনের পরিবার জানিয়েছে, সে ২২ জুন বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিল। শুক্রবার (২৫ জুন) তুরাগ নদ থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। সুমনের বাবা-মা বাকরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, সুমনের মোবাইল ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সব ছবি মুছে ফেলা হয়েছে। তার ফেসবুক আইডিতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রার ভিডিও পাওয়া গেছে।
আরিফ ও রনির মৃত্যু
আরিফের চাচা মো. আরশাদুল ইসলাম বলেন, '২২ জুন বেলা ১১টায় বাসা থেকে বের হয়ে যায় আরিফ। বিকাল ৪টায় মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল, এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল। বুধবার (২৪ জুন) তুরাগ নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। সে যে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত তা আমরা জানতাম না। মৃত্যুর পর ভিডিও-ছবি দেখে জানতে পারি।'
আমিনবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হুমায়ুন কবির বলেন, '২৪ জুন সকালে আরিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন দুপুরে দিয়াবাড়ি ঘাটে গোসলের সময় রনি মোল্লা ডুবে যায়। অন্যরা তাকে মৃত অবস্থায় পাড়ে তোলে।' রনির বাবা কফিল উদ্দিন মোল্লা জানান, তার ছেলে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় হোটেলে কাজ করত। তার মানসিক সমস্যা ছিল এবং কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না।
পুলিশের বক্তব্য
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, '২৫ জুন রাতে আশুলিয়া বাজারের পাশে তুরাগ নদের চক থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করি। পরিবার সুমনের বলে শনাক্ত করে। তারা জানান, ২২ জুন পিকনিকের কথা বলে বের হয় এবং নদে পড়ে যায়। সে সাঁতার জানত না। আমরা শুধু একটি লাশের কথা জানি।'
তুরাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, '২২ জুনের পর আশুলিয়া থানা এলাকা থেকে একটি লাশ উদ্ধার হয়েছে। ওই দিন মিছিল হয়েছিল, বেশ কিছু আসামি গ্রেফতারও হয়েছিল, তবে কারও মৃত্যুর কথা আমার জানা নেই।'
ফেসবুকের গুজব
সুমনের লাশ উদ্ধারের পর ফেসবুকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পেজ থেকে প্রচার করা হয় যে, তুরাগ থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে বিএনপি ও পুলিশের হামলায় সাত নেতাকর্মী নিখোঁজ এবং চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, 'তুরাগ নদে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ শিরোনামের তথ্য ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।'
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ফায়ার সার্ভিস ও থানার তথ্য
উত্তরা ফায়ার সার্ভিস জানায়, তাদের আওতাধীন এলাকায় ২২ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তুরাগ নদ থেকে কোনো লাশ উদ্ধার হয়নি। ডিএমপির রূপনগর থানার ওসি নোমান হোসেন বলেন, '২২ জুন থেকে শনিবার পর্যন্ত তুরাগ নদ থেকে কোনো লাশ উদ্ধারের ঘটনা নেই।' দারুস সালাম থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, 'নৌ-পুলিশ বুধবার আরিফ নামে একজনের লাশ উদ্ধার করেছিল। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।'



