পদ পাওয়ার ১৯ দিনেই সাভার ছাত্রদলের সম্পাদক বহিষ্কার, দুই মামলা
সাভার ছাত্রদলের সম্পাদক বহিষ্কার, দুই মামলা

ঢাকার সাভারে থানা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার ১৯ দিনেই সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গুরুতর বেশকিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা হয়েছে।

বহিষ্কার ও মামলার বিবরণ

গত ২৬ জুন দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাহাবুব হোসেন সামিরকে বহিষ্কার করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অটোরিকশা লুট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা, কিশোর অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন কর্মকাণ্ড সাভারের সুশীল সমাজের মানুষ ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখছেন।

সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। দুই মামলায় সামিরসহ তার সহযোগী ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাঁদাবাজি ও অটোরিকশা লুটের অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজাশন আমতলা এলাকার বাসিন্দা লাবনী বেগম গত ১২ জুন রাতে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তার খালাতো ভাই শামীম রেজার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৪ মে, ২৭ মে, ৮ জুন, ১২ জুন ও ১৬ জুন ৫ দফায় তার সহযোগীদের নিয়ে শামীম রেজার অটোরিকশা গ্যারেজে হামলা চালায়। কয়েক দফায় ২৩টি অটোরিকশা ও ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি জোরপূর্বক নিয়ে যায় তারা। মালামালের আনুমানিক মূল্য অন্তত অর্ধকোটি টাকা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় গ্যারেজের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং শামীমের বসতবাড়িতে হামলা করে ওয়ারড্রোব থেকে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এরপর ১২ জুন রাতে অভিযুক্তরা পুনরায় শামীম রেজার বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় শামীম রেজার খালাতো বোনের স্বামী একরামুল হককে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবের পর এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

কিশোর অপহরণ ও নির্যাতনের মামলা

এছাড়া রাজাশন এলাকার রিপন ঋষি (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে মাহাবুব হোসেন সামিরসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জুন আরও একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর ভগিনীপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর।

পুলিশের গড়িমসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শামীমের স্ত্রী আফরোজা আক্তার সাথী যুগান্তরকে বলেন, মালামাল লুট ও হামলার ঘটনায় গত ১২ জুন দুপুরে ও রাতে সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করা হয়; কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে সাভার মডেল থানার এসআই মো. নেয়ামত উল্লা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। তাই তিনি মামলাটি থানায় না হওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি শুরু করে। অবশেষে ১২ দিন পর গত ২৪ জুন অটোরিকশা লুট ও ২৬ জুন কিশোর নির্যাতনের অভিযোগ দুটি আমলে নেয় পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে সাভার মডেল থানার এসআই মো. নেয়ামত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, গ্যারেজ মালিক শামীম ও ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব এটা সত্য। এটাও সত্য শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর তার গ্যারেজ থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটপাট হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। আর মামলা নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এখতিয়ার।

গ্যারেজ লুটপাট ও চাবি জিম্মার ঘটনা

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় গ্যারেজ মালিক শামীম রেজাকে গত ১০ জুন সকালে গ্রেফতার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। এর আগে শামীমের গ্যারেজ তালাবদ্ধ করে সাভার মডেল থানার এসআই নেয়ামত উল্লার জামানতে রাখেন। এরপর দফায় দফায় ওই গ্যারেজ থেকে ২৩টি অটোরিকশা ও ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি লুট হয়। মালামাল লুট হওয়ার পর নেয়ামতের কাছে জিম্মায় থাকা চাবি তড়িঘড়ি করে শামীমের মায়ের কাছে দিয়ে যান।

পরিবারের অভিযোগ, গ্যারেজ লুটপাটের ঘটনায় নেয়ামত উল্লা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই আমাদের দুটি অভিযোগ ১২ দিন পর আমলে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আমরা নেয়ামত উল্লাকে আসামি করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে জানান তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

মামলার বিষয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে।