গাজীপুরের কালীগঞ্জে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে জানা যায়, লাশটি সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
হত্যার কারণ ও গ্রেফতার
জবানবন্দিতে তিনি জানান, মাদককারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শীতলক্ষ্যার পাড়ে সাইফুলকে হত্যা করা হয়। তার লাশ বেড়িবাঁধ রাস্তায় ফেলে রাখে তারা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কালীগঞ্জের অলুয়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে মো. রেজাউল করিম (৫০), একই গ্রামের আব্দুল আলী মিন্টুর ছেলে মো. নাঈম মিয়া (২৫) এবং টিউরী গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে মো. আবু তাহের (৩২)।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, গত ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ থানার তুমুলিয়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু বাজার-মিশনগামী পাকা সড়কের পাশে জনৈক করিমের বাড়ির সামনে বেড়িবাঁধের রাস্তার উপর এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তি তুমুলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৮) বলে শনাক্ত হয়। পরে নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১ জুন রাত থেকে ২ জুন ভোরের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত এবং মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সাইফুলকে হত্যা করে। পরে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ডিবির এসআই মো. আবুল হাসানের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
মাদক ব্যবসার বিরোধ
ডিবি পুলিশ জানায়, পূর্ব বিরোধ ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউল করিমের সঙ্গে নিহত সাইফুলের মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ ছিল। এর জেরে কয়েক দফা তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন রাতে রেজাউল, নাঈম ও আবু তাহের পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাইফুলকে কলাবাগানের পাশে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশটি বেড়িবাঁধের রাস্তার উপর ফেলে রাখা হয়।
আলামত ও আইনি প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে আবু তাহের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। কালীগঞ্জের এ হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি ক্লুলেস ঘটনা। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষ তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় গাজীপুর জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।



