আদাবরে পুলিশের ওপর হামলা: ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপের’ সদস্যরা জড়িত
আদাবরে পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’

রাজধানীর আদাবরে কুপিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা ‘কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপ’-এর সদস্য বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে পুলিশের ওপর এ হামলা হয়। এতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে দুই ছিনতাকারী আহত হয়েছেন এবং ওই দুজনসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় শফিকুল ইসলাম নামের এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর পুলিশ অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা উদ্যানের কাছে ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের ওপর ছিনতাইকারীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুই ছিনকারী গুলিবিদ্ধ হন।

ওসি ও এসআই আহত

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, হামলাকারীরা ওসির মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর হাতে কোপ লাগে। একই ঘটনায় এসআই তরুণও আহত হন। তাঁর হাতের সামনের অংশে জখম হয়েছে। আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, ওসি ও এসআই সামান্যই আহত হয়েছেন। তাঁদের কুপিয়ে জখম করা হয়নি। ছিনতাইকারী ধরতে অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে ছিনতাইকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। এতে রুবেল ও আমির নামের দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁদের আটক করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে কাশেম ও জয় নামের আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। হামলায় আদাবর থানার ওসি সামান্য আহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপের তৎপরতা

পুলিশ বলছে, এই ছিনতাইকারী দলের হোতা আনোয়ার হোসেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই অপরাধী দলের সদস্যরা নানা ব্যক্তির হাতের কবজি কেটে উল্লাস করে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচার করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আনোয়ারের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কুপিয়ে জখম, হত্যাসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর থেকে আনোয়ার কারাগারে থাকলেও দলটির সদস্যরা নানা অপরাধে সক্রিয়। এই অপরাধী দলটি এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ‘অ্যাক্সেল বাবু’ নামের এক সন্ত্রাসী।

ঢাকার মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে অর্ধশতাধিক অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে বড় অপরাধী দল ১৭টি। প্রতিটি দলে ১৫ থেকে ২০ জন করে অপরাধী রয়েছে। তাদের আয়ের উৎস মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল, অপরাধের কাজে ভাড়া খাটা ইত্যাদি। এসব অপরাধী দলের সদস্যরাই মূলত এই অঞ্চলের ছিনতাইয়ের নেতৃত্ব দেয়। প্রকাশ্যে কুপিয়ে, গুলি করে তারা নিয়মিত ছিনতাই করে।

এ অঞ্চলের অপরাধী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, অ্যালেক্স গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, লও ঠেলা গ্রুপ, ফরহাদ গ্রুপ, আর্মি আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ, আকবর গ্রুপ ইত্যাদি।