বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার ও ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু সেই সংস্কার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা সেই ভোটাধিকারের পক্ষে লড়াই করব। সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকারকে অবশ্যই বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি বিএনপি ৭৫ শতাংশ মানুষকে ডিনাই করে, তাহলে এই সরকারের পতনধ্বনি বাজতে সময় লাগবে না।’
বিএনপির সমালোচনা
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপির ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা গুন্ডা-সন্ত্রাসী, তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না। তাই এই সরকার ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানাব, আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়। যারা আমাদের ভাইদের খুন করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারকাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনে অনিয়ম
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লাগারে লাগা, ধান লাগা, যারা এই ধরনের স্লোগান দেয়, তাদের নিয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জি হুজুর, জি হুজুর ধরনের লোক প্রশাসনে দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যাংকিং সেক্টরে অদক্ষ লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জের উন্নয়নের মডেল এখন বগুড়ার শিবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগে হলো একটা দল গিয়েছে। এখন আরেকটা দল একই পথে যাচ্ছে। গোপালগঞ্জ ও বগুড়ার এই মডেল এটা যদি বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র–জনতা মাঠে নেমে এসেছিল, সেই যে আকাঙ্ক্ষা, তা কিন্তু অধরাই থেকে যাবে। তাই এনসিপি মনে করে, বাংলাদেশের যে জায়গায় উন্নয়নটা প্রয়োজন, সেখানেই দিতে হবে।’
বিএনপির উদ্দেশে
বিএনপির উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘তারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করে হীন জাতের পরিচয় দিচ্ছে। যাদের মনমানসিকতা খুবই সংকীর্ণ, তারা এই ধরনের কাজ করে থাকে। তাই আমরা বলব, যদি নাম পরিবর্তন করতে হয় অথবা নতুন নামকরণ করতে হয়, তাহলে শহীদ আবু সাঈদ আছে, শহীদ মুগ্ধ আছে, আমাদের ১৪০০ শহীদ আছে, তাদের নামে নামকরণ করেন। আপনার ছেলেকে গণ-অভ্যুত্থানে দেখা যায়নি, আপনারা আরাম–আয়েশে ছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ছিলেন। আপনার ছেলেকে ঠিকাদারি কাজ দিয়েছেন। এই ধরনের যে নোংরা রাজনীতি আপনারা আবার জন্ম দিচ্ছেন, তা বাংলাদেশের জনগণ পছন্দ করবে না।’
বাগেরহাটের উন্নয়ন
বাগেরহাটের উন্নয়ন ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বাগেরহাটে শেখ পরিবারের রাজত্ব ছিল। শেখ পরিবার রাজত্ব করেছে, শেখের নাম বিক্রি করেছে। কিন্তু উন্নয়নের নামে কিছু হয়নি। বাগেরহাট থেকে শেখ পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য বাগেরহাটবাসীকে অভিনন্দন জানাই। এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক–বাহক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
এ সময় এনসিপির বাগেরহাট জেলার সমন্বয়ক সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, এনসিপি নেতা লাবিব আহমেদ, জাতীয় নারী শক্তির নেত্রী আরজিন আরোবী নওরিনসহ ছাত্রশক্তি, যুবশক্তিসহ এনসিপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল শনিবার সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের আগে বাগেরহাট আসেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ষাটগম্বুজ মসজিদে জুমার নামাজ শেষে খুলনায় ফিরে যান।



