মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ মুজিব আলীর পরিবারের কথা তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহত তরুণের পরিবারের পাশে এনসিপি
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাঘাট বাজারে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজন করে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা কমিটি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘২১ বছরের একটা যুবক (মুজিব) তার বাসায় গিয়েছি। ১২ মাসের একটা বাচ্চা, আর ১৯ মাসের আরেকটা বাচ্চা, আরেকটা বাচ্চা আসবে, যাকে বিএসএফ হত্যা করেছে। আপনারা কি সীমান্ত হত্যার বিচার চান না? সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে।’
তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যদি কেউ চাঁদাবাজি করে থাকে, তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন, যদি কেউ জমি দখল করতে আসে, তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন, যদি কেউ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে থাকে, তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন। তরুণ প্রজন্ম আপনারা এই কুলাউড়াবাসীকে রক্ষা করবেন। আপনারা যদি দাঁড়িয়ে যান, সারা বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে যাবে।’
সিলেটের উন্নয়ন ও এয়ারপোর্ট চালুর দাবি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সবাই বলেন, সিলেটিরা নাকি শুধু লন্ডনে গিয়ে টাকা কামায়। আপনাদের এলাকায় এসেছি, অথচ অত উন্নয়ন কিন্তু দেখি নাই। এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কিন্তু আপনাদের হাত দিতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) শ্বশুরবাড়ি কিন্তু সিলেটে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, শ্বশুরবাড়ির এলাকা হিসেবে অন্তত সিলেটের উন্নয়ন করবেন। আসার সময় রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখি খুবই নাজুক। আমার শ্বশুরবাড়ি হইলে আরও ভালা রাস্তা বানাইতাম। এইখানে শমশেরনগরে একটা এয়ারপোর্ট আছে, এইটা বন্ধ আছে। এইটা চালু করতে হবে।’
সীমান্ত হত্যা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রত্যয়
বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশে সারজিস আলম বলেন, ‘সীমান্তে যে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, আগামীর বাংলাদেশে তা আর হতে দেওয়া হবে না।’ সীমান্ত এলাকার মানুষকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তের প্রত্যেক নাগরিককে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে একেক জন বিজিবি সদস্যের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে। সীমান্তে পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে। সীমান্তে ১০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করলে, তাদের সহায়তায় হাজারো মানুষ এগিয়ে আসতে হবে।
এনসিপিতে যোগদান
রাত ৮টার দিকে কুলাউড়া শহরে জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এনসিপির উপজেলা কমিটির ব্যানারে মতবিনিময় ও যোগদান অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আজিজুর রহমান ও ক্রিকেট সংগঠক রফি আহমদ তানিম কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে ফুল দিয়ে এনসিপিতে যোগদান করেন।



