‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি ৭০% মানুষের: জামায়াত নেতা
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি ৭০% মানুষের

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি কেবল জামায়াত-এনসিপি বা ১১ দলের নয়, বরং এটি দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের প্রত্যাশা, যা গণভোটের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার খুলনায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সমাবেশের প্রস্তুতি ও বর্তমান রাজনীতি

আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা রাজপথে নামতে চাই না, সংসদে সব কিছুর সমাধান হোক—এটিই আমাদের চাওয়া। কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করলে রাজপথই হবে চূড়ান্ত জায়গা। কারণ প্রেম কখনো একতরফা হয় না।”

তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সমাধানযোগ্য একটি বিষয়কে সরকার রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়। বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও বর্তমান সরকার দলীয়করণের নজির স্থাপন করছে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সবকিছু দলীয়করণ করা হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে, তাদের স্লোগান পরিবর্তন করে ‘সবার আগে বিএনপি’ করা উচিত।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই সনদ ও গণভোট

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বিএনপি-জামায়াতসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দল আলোচনার মাধ্যমে ৮৪টি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোটার এর পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। খোদ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা তখন এই সনদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু এখন ক্ষমতায় বসে তারা ১৮০ ডিগ্রি ‘ইউটার্ন’ নিয়ে এই গণভোট ও সংস্কার প্রস্তাবকে ‘বেআইনি’ দাবি করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সীমান্ত ও আধিপত্যবাদ

সীমান্তে পুশ-ইন এবং হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য এ বিষয়ে সংসদে কথা বলতে চাইলে তাকে তা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। এটি সরকারের আধিপত্যবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, “কেউ আমাদের ওপর দাদাগিরি করে আধিপত্যবাদের সেবাদাস বানাক, তা আমরা হতে দেব না।”

খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনের পর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নগরীর বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন এবং সমাবেশের মঞ্চ পরিদর্শন করেন। সমাবেশের কারণে নগরবাসীর সাময়িক জনদুর্ভোগ হতে পারে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন।