মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের সভা, তীব্র সমালোচনা
মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের সভা, সমালোচনা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একটি মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সভা করায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের আদব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মুসল্লিরা। সমালোচনার মুখে ভবিষ্যতে মসজিদে এ ধরনের সভা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল এনে সভা করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা। সভা থেকে স্থানীয় জামায়াত নেতা মনোহর বাদশাকে ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমির আবদুল বাছেত হারুন, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি গোলাম আজম, ১৭ নম্বর ইমাদপুর ইউনিয়নের আমির মিজানুর রহমানসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুসল্লিদের প্রতিক্রিয়া

মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সভা করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। চকপাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন মিয়া বলেন, জামায়াতে ইসলামী মসজিদের ভেতরে চেয়ার–টেবিল বসিয়ে দলীয় কর্মসূচি করে মসজিদের আদব লঙ্ঘন করেছে। এটা নিন্দনীয় কাজ।

মিঠাপুকুর উপজেলার হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে সাধারণত অন্য দলের সমালোচনা করা হয়ে থাকে, যা গিবতের পর্যায়ে পড়ে। মসজিদের ভিতরে তো গিবত করার সুযোগ নাই। এ ছাড়া চেয়ার–টেবিল নিয়ে বসে দলীয় প্রোগ্রাম করায় মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধন না হয়ে সৌন্দর্যহানি হয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতের ব্যাখ্যা

বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মিঠাপুকুর উপজেলা আমির আসাদুজ্জামান শিমুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যেহেতু অনেকের কাছে অনুষ্ঠানের কিছু দিক দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা হাসিলেরও চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে মসজিদে এ ধরনের সভা বা বৈঠকের ক্ষেত্রে আমরা আরও সতর্ক থাকব, ইনশা আল্লাহ। গঠনমূলক পরামর্শ ও আন্তরিক সমালোচনাকে আমরা ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করি।’