বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী সাভারের তারাপুর ঈদগাহ ময়দানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেছে। একইসঙ্গে হামলায় প্রশাসনের লোকজনের জড়িত থাকার অভিযোগও এনেছে দলটি।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতি
সোমবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে পরওয়ার বলেন, হামলায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
“আমি এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি,” তিনি বলেন।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ
পরওয়ার বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দেয়। “সমাবেশ শুরুর সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং তারপর মঞ্চের সামনে ককটেল বিস্ফোরণকে সাধারণ ঘটনা বলে মনে করা যায় না,” তিনি বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপের উপস্থিতি সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। “বিদ্যুৎ বিভ্রাট গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। জনগণ বিশ্বাস করে, প্রশাসনের যোগসাজশে হামলাকারীরা এই ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে,” তিনি দাবি করেন।
গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান
পরওয়ার বলেন, ভিন্ন রাজনৈতিক মতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য অপরিহার্য। “রাজনীতিতে সহিংসতা, বোমা হামলা ও হত্যাচক্রান্তের কোনো স্থান নেই। যারা অতীতে এ ধরনের রাজনীতি করেছিল, তাদের ভালো পরিণতি হয়নি,” তিনি যোগ করেন।
তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি
তিনি ঘটনার ন্যায্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরওয়ার সরকারের প্রতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।



