একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে বিএনপিকে পাল্টা প্রশ্ন জামায়াতের
একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে বিএনপিকে পাল্টা প্রশ্ন জামায়াতের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন ও কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির দিকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির প্রতি পাল্টা প্রশ্ন

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে ভাষায় বাইরে এবং পার্লামেন্টে আপনারা কথা বলেন, প্রশ্ন করেন, তাহলে আমাদেরও তো প্রশ্ন আছে। সেই জবাবটা তো বিএনপিকে দিতে হবে। সেই জবাবটা দেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত ১৪-১৫ জন মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন, যাঁরা পাকিস্তানের সময়ে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশ তাঁরা চাননি। জবাব দেন। সেই তালিকা পত্রিকায়, মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।’

একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে সরব বিএনপির নেতারা। গত রোববার জাতীয় সংসদেও তা তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য জামায়াতকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপির সমালোচনা

গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা বলে ‘জামায়াতের ওপরে ভূত চেপেছে’। এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার আর সরকারি দলের ওপরে ভূত চেপেছে। বিএনপি মহাসচিবের মাথায়ও মাঝে মাঝে ভূত চাপে। কিছুদিন গেলেই ৫০-৬০ বছরের পুরোনো ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়’কে সামনে এনে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একাত্তর প্রশ্নে দলীয় অবস্থান নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সেই পাকিস্তান আমলে সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য কী ভূমিকা পালন করেছিল, সেই দলের সে সময়কার নেতৃবৃন্দ তার ব্যাখ্যা, তার বক্তব্য জাতির সামনে তারাই তখন দিয়েছিল। তারা এখন অনেকেই দুনিয়াতে নেই। সেই ব্যাখ্যা কারও পছন্দ হতে পারে, না–ও হতে পারে, সেটা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে।’

জোটের সময়ের অবস্থান

এখন যে প্রশ্ন বিএনপি তুলছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সময় বিএনপির সেই অবস্থান কোথায় ছিল, সেই প্রশ্নও করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, অন্তত ২০-২২ বছর ধরে জামায়াতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি চার দল, ১৮ দল, ২০–দলীয় জোটের রাজনীতি করেছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় গোলাম আযমের বাসায় বিএনপি নেতারা ধরনা দিয়েছিলেন, যেন জামায়াতের ভোটগুলো বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর পক্ষে আসে। চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা যখন একসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন, লংমার্চ করেছেন, তখন একাত্তরের প্রশ্ন তাঁদের মনে ছিল না।

১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে জামায়াতের সমর্থন দেওয়ার কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের হত্যা শুরু করেছিল ছাত্রদল। এটাই কি বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিদান?

গণমাধ্যমের ভূমিকা

সংবাদ সম্মেলনে কিছু সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনাও করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দু–একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের সংবাদপত্র সরাসরি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এমনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করছে, যাতে মনে হয় তারা রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের ভূমিকা পালন করছে। তারা যদি বিএনপির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়, সেটি যেন ঘোষণা দেয়।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের চরিত্রে যদি এত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং মিথ্যাচার থাকে, তাহলে আমরাও কি গণমাধ্যমের এই চরিত্রের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পথ ধরব? আমরা সেটা করতে চাই না।’ ফ্যাসিবাদ যখন ক্ষমতায় ছিল, এই সংবাদপত্রগুলো তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছে দাবি করে তিনি বলেন, তারা সে সময় নির্লজ্জভাবে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ করে তারা রূপ পরিবর্তন করে ফেলেছে।

অন্যান্য বক্তব্য

জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন ও কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীতে বিভাজনের রাজনীতির কারণে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আবার বর্তমান সরকার নেপথ্যে থেকে বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। ক্ষমা আপনার বাবাকে কবর থেকে চাইতে বলেন। কারণ, আমরা অপরাধ করি নাই, ক্ষমা চাইব কেন? আপনার বাবা অপরাধী, এই অভিযোগ আছে। সুতরাং কথা সতর্কভাবে বলা উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম ও আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।