রাজধানীর পুরান ঢাকার মুরগিটোলা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলামকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষ
ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম মুরগিটোলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। ভাড়া বাসার পানির লাইন মেরামতের জন্য তিনি বাড়িওয়ালাকে টাকা দিয়েছিলেন। কাজ শেষ হলে প্লাম্বার মাইকেল আবার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান আজহারুল। তখন আজহারুলের জুতা নিয়ে চলে যান মাইকেল। জুতা ফেরত চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
আজহারুলের অভিযোগ, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি তাঁকে (আজহারুল) মারধর করেন, এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে আজহারুলের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে যান। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ-মারামারি হয়।
পুলিশের ভূমিকা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে আশিককে মারধরের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। তখন ছত্রভঙ্গ করতে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। মারামারি ও পুলিশের লাঠিপেটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন, তাঁদের মধ্যে আছেন লিমন ইসলাম ও অপূর্ব রায়। তাঁরা দুই গণমাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
ঘটনার প্রতিবাদে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করেন। তাঁরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা সরে যান।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। উল্টো শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশের ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন ঘটনাস্থলে ছিলেন, তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন। পুলিশের ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহাসীন বলেন, শিক্ষার্থীরা বাঁশ নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া দিতে আসেন, তখন পুলিশ আত্মরক্ষায় লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন তাঁরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. নাসির উদ্দীন বলেন, তিনি খোঁজ নিয়েছেন। জানতে পেরেছেন, শিক্ষার্থীরা পুলিশের কাছ থেকে একজনকে ছিনিয়ে নিয়ে মারতে চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখছেন তিনি।



