যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যার পর দুর্ঘটনা দেখানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার ভারতীয় প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যায় গ্রেপ্তার ভারতীয় প্রকৌশলী

যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রীকে হত্যা করে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন এক ভারতীয় প্রকৌশলী। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। প্রায় নয় মাস পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে থাকা তার প্রেমিকার কাছে স্ত্রীর মরদেহের ছবিও পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী অভিনাশ নার্নে গত বছরের অক্টোবরে তার স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পর অভিনাশ জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, তার স্ত্রী বাথরুমের ভেতরে আটকা পড়েছেন এবং কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রাজিথাকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিনাশ দাবি করেন, ২৭ অক্টোবর তিনি কিছু সময়ের জন্য বাসার বাইরে ছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, স্ত্রী বাথরুমে আটকা রয়েছেন। তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই সময়ের মধ্যে তার ছাড়া অন্য কেউ বাসায় প্রবেশ করেনি। ঘটনার পরদিন কিং কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানায়, রাজিথার মৃত্যু স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনাজনিত নয়; তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গোপন সম্পর্ক ও বিয়ে

তদন্তে আরও উঠে আসে, বহু বছর ধরে ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন অভিনাশ। সেই সম্পর্ক চলমান থাকতেই ২০২৫ সালের ৫ জুন পারিবারিকভাবে রাজিথার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের প্রেমিকাও ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের দিনের যোগাযোগ

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের দিন অভিনাশ অন্তত চারবার ওই নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এমনকি তিনি যখন পুলিশকে জানান যে বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টা করছেন, তখনও প্রেমিকার সঙ্গে তার ফোনালাপ চলছিল। তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি স্ত্রীর মরদেহের একটি ছবিও ওই নারীকে পাঠান।

বার্তার প্রমাণ

এদিকে কর্মকর্তারা সাব্বিনেনির ফোন থেকে নার্নেকে পাঠানো কিছু খুদে বার্তাও খুঁজে পেয়েছেন। সেসব খুদে বার্তায় সাব্বিনেনি বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছিলেন, নার্নে তার জন্য যে পানীয় তৈরি করে দিতেন, তার স্বাদ খুব ‘তিক্ত’ লাগত। মৃত্যুর দিনও সাব্বিনেনি তার স্বামীকে পাঠানো খুদে বার্তায় লিখেছিলেন, তার তৈরি করে দেওয়া স্মুদিটির স্বাদ ‘ওষুধ’ এবং ‘কাশির সিরাপের’ মতো লাগছে।

আইনি প্রক্রিয়া

গত ৫ জুলাই অভিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বর্তমানে তিনি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জামিনে কারাগারে আটক রয়েছেন।