জামালপুরের ইসলামপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ (বাবু) এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলা থানা মোড়সংলগ্ন জেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
বিরোধের জেরে গাড়ি ভাঙচুর
সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদের দুই মেয়ে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের (নবাব) মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতা–কর্মীরা। ভাঙচুরের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরের সমর্থকদের দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ওই ডাকবাংলোতে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ ও বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাংলোর প্রাঙ্গণে থাকা দুজনের গাড়ি ভাঙচুর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে গাড়ি দুটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
নুরুল ইসলামের অভিযোগ
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মলমগঞ্জ এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি ও সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের বাইরে সংসদ সদস্যের বড় মেয়ের অনুসারী ছাত্রদল নেতা মো. হাসমত ও মো. হাসানের সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকিলের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা করেন।
নুরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘শাকিল আমার পরিচিত হওয়ায় ওই ঘটনার কথা হাসমত ও হাসান এমপির বড় মেয়েকে জানান। এরপর তিনি তাঁদের আমার গাড়ি ভাঙচুর ও আমাকে হেনস্তা করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ পেয়ে তাঁরা লোকজন নিয়ে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে যান। সেখানে থাকা এমপির গাড়িটিকে আমার গাড়ি ভেবে প্রথমে সেটিতে ভাঙচুর চালান। পরে ভুল বুঝতে পেরে আমার ব্যক্তিগত গাড়িটিও ভাঙচুর করেন।’
এমপির মেয়েকে নিয়ে অভিযোগ
এমপির মেয়ে কেন গাড়ি ভাঙচুরের নির্দেশ দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এমপি সাহেব শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না, ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। এই সুযোগে তাঁর বড় মেয়ে উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এখন ছোট মেয়েও তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এমপি সাহেবের বরাদ্দে টিআর, জিআরসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সব বরাদ্দ তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। শুরু থেকেই আমি এসবের প্রতিবাদ করে আসছি।’
সংসদ সদস্যের বক্তব্য
তবে নুরুল ইসলামের অভিযোগের সবই মিথ্যা বলি দাবি করেছেন সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা আমার সঙ্গে থাকে এটা ঠিক। কিন্তু কোথাও অনিয়ম হয়নি। আপনারা এলাকায় এসে সব প্রকল্প ঘুরে দেখে যান কাজ হয়েছে কি না? আমার মেয়েরা আমাকে সহযোগিতা করে, যাতে একজন ব্যক্তি দুটি কাজ না পান এবং এক ব্যক্তি যাতে বারবার সুবিধা না পান। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকা যাতে ঠিক থাকে—এসব বিষয়ে দেখাশোনা করেন। এর বাইরে কিছুই না।’
গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি ওই ডাকবাংলোতে ইউএনও, ওসি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আমার মেয়েকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। এ সময় প্রাঙ্গণে থাকা আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। শুনেছি, ওই সময় নাকি সাধারণ সম্পাদকের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। ওই বাংলাতে সিসিটিভি রয়েছে, ওই ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে, গাড়ি কারা ভাঙচুর করেছে। আমি ওসিকে নির্দেশ নিয়েছি, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।’
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতার গাড়ির রং একই রকম। দুষ্কৃতকারীরা নুরুল ইসলামের গাড়ি মনে করে সংসদ সদস্যের গাড়িও ভাঙচুর করে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



