চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রোববার (১৪ জুন) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৃথক কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি।
ছাত্রদলের বিক্ষোভ
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘জ্বালিয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও ধর্ষকদের আস্তানা’, ‘জামাত-শিবির ধর্ষক, ধর্ষক’, ‘বাহ, শিবির চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ১৯৭১ সালে তারা যে ভূমিকা পালন করেছে, বর্তমানে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা সহাবস্থান চাই, তবে কোনো ধর্ষকের স্থান এ ক্যাম্পাসে হবে না। এখন পরিস্থিতি আগের মতো নেই, এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ।
ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হিজাবসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রশিবির। বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন সংসদ সদস্যের হিজাব নিয়ে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বিএনপি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানালে হয়তো আমাদের আন্দোলনে নামতে হতো না। বাংলাদেশের সংবিধানে পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো পোশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। আমরা ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।
সংগঠনটির শাখা আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, গত ১৭ বছরে ছাত্রলীগ যেভাবে ক্যাম্পাসে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, বর্তমানে ছাত্রদলের মধ্যেও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তারা টেন্ডারবাজি ও নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এসব বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে আমরা মনে করি। হিজাব নিয়ে কটাক্ষের ঘটনায় আমরা ছাত্রদলকে সংযত আচরণের আহ্বান জানাই। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানানো হবে।



