পদ্মায় বালু উত্তোলন সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত
পদ্মায় বালু উত্তোলন সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত

পাবনার সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয় ও পটভূমি

নিহত মঞ্জু শেখ (৩২) আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সংঘর্ষের কারণ

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মধ্যচর এলাকার জোতকাকুরিয়া কলাবাগান চরে বালু উত্তোলন এবং স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা রহমত শেখের পক্ষ এবং ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খানের পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন বালু উত্তোলনের স্পট পরিদর্শনে গেলে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে রূপ নেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখ নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পক্ষগুলোর বক্তব্য

সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, "চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোক বালু তুলতে গেলে আমার ভাতিজা এতে বাধা দিতে যায়। এ সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।" অন্যদিকে, ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি বালু উত্তোলন করি না এবং বালু উত্তোলন সমর্থনও করি না। প্রশাসন তদন্ত করে আমার সংশ্লিষ্টতা পেলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।