মাদক পাচারে বদির জায়গা কে নিয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন গয়েশ্বরের
মাদক পাচারে বদির জায়গা কে নিয়েছে? গয়েশ্বরের প্রশ্ন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মাদক পাচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমাদের দেশে মাদকের সবচেয়ে বড় চালানটা আপনার বাড়ির আশপাশ দিয়ে আসে। আগে শুনতাম বদি, এখন তো বদি নাই। এখন তো ওখানকার দায়িত্বটা কে নিছে?’

মাদক পাচারে বদির ভূমিকা ও গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগের শাসনকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা ইয়াবা পাচারকারীর তালিকায় শীর্ষ নামটি ছিল কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির। ২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে এখনো কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি গয়েশ্বরের বক্তব্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘বাড়ির আশপাশের লোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তো চেনার কথা। এত দিনে ওদিক দিয়া মাদক আসা বন্ধ হওয়া তো উচিত ছিল।’ মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার উদাহরণ দেন। সেখানে ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল কার্যত মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে কোনো রোগী, চিকিৎসক কিংবা দারোয়ান নেই। অথচ সরকারি হিসাবে ওই এলাকায় ৬ লাখ এবং বেসরকারি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইন কার্যকরে সাহস ও সদিচ্ছার প্রয়োজন

মাদক রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, আইন কার্যকর করতে সাহস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘আইন দিয়া কোনো কিছু হয় না। আইন কার্যকরী করার জন্য সাহস লাগে, ইচ্ছা লাগে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজেট ও অর্থনীতি প্রসঙ্গ

বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত প্রথম বাজেট নিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ ঘোষণার মধ্যেই দেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট ভিশন রয়েছে এবং সেই ভিশন সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন করেছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অর্থ মানুষের হাতে পৌঁছালে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দুর্নীতি ও রাজস্ব আদায়

রাজস্ব আদায়ে দুর্নীতিকে বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে গয়েশ্বর রায় বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে পুরো জাতি দুর্নীতির চাপে তলিয়ে যাবে। দুর্নীতির মাত্রা কমানো গেলে বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সংসদ সদস্যের ওয়াশিং মেশিন দাবি প্রসঙ্গ

বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যের ওয়াশিং মেশিনের দাবির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি ওয়াশিং মেশিনের নাম শুনেছেন, তবে কখনো দেখেননি বা ব্যবহারও করেননি। সংসদ দিলেও তিনি তা নেবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘সংসদ সদস্যদের যদি ওয়াশিং মেশিনের অভাব হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের অভাব যে কত বেশি, সেটির দিকে তাকানো উচিত। তখনই বোঝা যাবে অর্থবহ বাজেট কাকে বলে।’

বিড়ির ওপর কর কমানোর আহ্বান

গয়েশ্বর রায় বিড়ির ওপর কর কমানোরও আহ্বান জানিয়ে বলেন, দিনমজুর ও কৃষকদের অনেকেই পরিশ্রমের ফাঁকে বিড়ি খান, তাই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ইসলামী ব্যাংকে অমুসলিমদের চাকরি প্রসঙ্গ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকে অমুসলিমদের চাকরির সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, একটি ইসলামিক ব্যাংকে একজন হিন্দু প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয় না, এটা বৈষম্যমূলক।